সুমিত বণিক।। কিশোরগঞ্জ।
এই দেশে প্রযুক্তির এই আধুনিকতার যুগেও আমরা এখনও একটা শ্রেণীর মানুষকে হয়রানি করতে মিথ্যে আনুষ্ঠানিকতার খাঁচায় আবদ্ধ। সরকারী চাকুরী প্রত্যাশী প্রত্যেক আবেদনকারীকেই নিজের চরিত্রের ইতিবাচক বিবৃতি দিয়ে একটি চারিত্রিক সনদ জমা দিতে হয়। কিন্তু কি লাভ হয় এই আনুষ্ঠানিকতার? ফটোকপির দোকান থেকে ২ টাকা দিয়ে কেনা ছাপানো সনদের খালি জায়গা গুলো পূরণ করে একজন কর্মকর্তা সীল সম্বলিত স্বাক্ষর করে দিলেই হয়ে গেলো চারিত্রিক সনদ। এই সনদটি কি একজন মানুষের অদৃশ্য আর অন্তর্নিহিত চরিত্রের কোন বৈশিষ্ট্য প্রমাণে কোন প্রকার ভূমিকা রাখে? আর যারা এই সনদটি জমা দেয়, তারা কি কখনো তার নিজ চরিত্রের নেতিবাচক শব্দ সম্বলিত সনদ জমা দেয়? বেকাররা যখন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার কাছে গিয়ে বিনয়ের সাথে বলার পরও শুরু হয় বিড়ম্বনা। ঐ কর্মকর্তা চাকুরী প্রার্থীর বেকারত্বের সুযোগ নানা অযৌক্তিক প্রশ্নবাণে তাকে জর্জরিত করে। চাকুরি প্রার্থী তবু বিরক্ত হয় না। কারণ সে জানে, তার এই সনদ না পেলে, তার আবেদনপত্রটি গ্রহণযোগ্য হবে না, তাই সকল অযৌক্তিক প্রশ্নের উত্তর দিয়েও সে চায়, একটা সনদ। আর অযৌক্তিক প্রশ্নটি করবেই বা না কেন! এই কর্মকর্তার কাছে আসার আগ মুহূর্তেও তো চাকুরি প্রার্থীর সাথে ঐ সনদে স্বাক্ষর কর্তার পরিচয় ছিল না। কিন্তু যেই ব্যক্তিটি সনদটি দিল তার চারিত্রিক গুনাবলী কি পরখ করার সুযোগ কেউ পাচ্ছে? আর যাকে সৎ চরিত্রের আখ্যা দিয়ে এই চারিত্রিক সনদটি প্রদান করা হলো, তার চারিত্রিক গুনাবলী কি পরে আর যাচাই করা হয়? যদিও চাকুরির সময় কারো চরিত্র ভাল থাকলেও, পরবর্তীতে চাকুরি পাবার পর অধিকাংশেরই অর্থের মোহে চরিত্র আর চরিত্রের জায়গায় থাকে না। তাহলে চারিত্রিক সনদ নিয়ে এই ভুয়ামি আর কতদিন চলবে?? নাকি ২ টাকায় কেনা ছাপানো কাগজটিতে কর্মকর্তার স্বাক্ষরযুক্ত সীল সম্বলিত কাগজটি আমাদের চরিত্রের রক্ষা কবজ হিসেবে ব্যবহৃত হতেই থাকবে?
Designed and Developed By Domain Technologies Ltd.







