আমাদের দেশটা কত বিচিত্র সেটা ভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা ভাবলে মাঝে মাঝে বড্ড বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি। দেশে দুর্নীতি হচ্ছে কি, না হচ্ছে সেটা বুঝার জন্য কোন তথ্য ভিত্তিক রিপোর্টের প্রয়োজন খুব একটা আছে বলে মনে হয় না। দেশের অধিকাংশ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবা পেতে একজন সেবা-গ্রহীতাকে যে পরিমাণ দুর্ভোগের শিকার হতে হয়, তা দেখে দেশে বিদ্যমান দুর্নীতির পরিস্থিতিটা সহজেই অনুমেয়। যখন দেশের দুর্নীতির চিত্র প্রকাশে কোন দুর্নীতি তদন্তকারী সংস্থা দুর্নীতির ব্যাপকতার পরিমাপ হিসেবে গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে, তখনই ঘটে আসল বিপত্তি। ক্ষমতাসীন সরকারি দলের পক্ষ থেকে ঐ দুর্নীতির প্রতিবেদনকে করা হয় প্রত্যাখ্যান আর বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জানানো হয় স্বাগত। এ সুযোগে বিরোধীদল ক্ষমতাসীন দলের দেশ পরিচালনায় অদক্ষতাকে কেন্দ্র করে করেন ব্যাপক প্রচারণা। আমরা সবাই নিজের অবস্থান থেকে কোনো না কোনো সময় নৈতিক বা অনৈতিক সুবিধা পাওয়ার জন্য নিরবে উৎকোচ দিয়ে থাকি। যারা সামর্থ্যবান তারা হয়ত বিষয়টাকে আমলেই নেন না, কিন্তু যিনি এই উৎকোচ দিতে অসামর্থ্য, তার কথা কি কেউ একবার ভাবি? অনেকক্ষেত্রে অনিয়মটাকেই নিয়ম ভেবে প্রতিবাদ-প্রতিরোধের বোধটাই জেগে উঠে না। আমার বিশ্বাস ব্যক্তিগত পর্যায়ে প্রতিটি সাধারণ মানুষ তাঁর প্রাপ্য সেবা গ্রহণে ও প্রদানে দীর্ঘদিনের চলে আসা রীতির অবসান কামনা করে দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে, কিন্তু দুর্নীতির রাজনীতিকরণ এদেশের সাধারণ মানুষের ভাগ্যাকাশে নতুন সূর্যোদয়ের অন্যতম বাঁধা। কিছু উদ্যোগও আমাদের এ রীতির পরিবর্তন ঘটাতে পারিনি। কিন্তু দেশের স্বার্থেই আমাদের কে আরো জাগ্রত হতে হবে। নিজের অধিকার আদায়ে আরো সোচ্চার হতে হবে। এর ব্যাত্যয় ঘটলে এর খেসারত আমাদেরই দিতে হবে।
গত ২৮ ডিসেম্বর ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সমন্বিত বহুমুখী নমুনায়ন কাঠামো অনুসরণ করে দৈবচয়ন পদ্ধতিতে নমুনায়িত দেশের সাতটি বিভাগের ৬৪টি জেলার মোট সাত হাজার ৫৫৪ খানার অংশগ্রহণে উত্তরদাতাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতালব্ধ তথ্যের উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত খাতে সেবাগ্রহীতারা ঘুষসহ যে ধরণের দুর্নীতি বা অনিয়মের শিকার হন, তার চিত্র হিসেবে ২০১২ সনের জাতীয় খানা জরিপের ফলাফলে উঠে এসেছে ৬৪% সেবা-গ্রহণকারীই দুর্নীতির শিকার। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত দেশের বিদ্যমান দুর্নীতির প্রতিবেদনের নেতিবাচক ফলাফল জেনেও আমরা দেশের উন্নতির স্বপ্ন দেখি। প্রত্যাশা করি দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রচারণা, তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সাংবিধানিক ভাবে প্রতিষ্ঠিত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) হবে আরো স্বাধীন, প্রভাবমুক্ত ও কার্যকর। এই স্বাধীন দেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মুক্তিকামী শুভবুদ্ধির সাধারণ মানুষ আজো সকল কালিমা আর হতাশার মাঝেও আলোর দিনের প্রত্যাশী।
আশার কথা, দিন দিন কিছু শুভ চিন্তার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অপসংস্কৃতিকে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষায় নিজ কণ্ঠস্বরকে উচ্চকিত করছে দেশ বিরোধী অন্যায় ও অপশক্তির বিরুদ্ধে।
Designed and Developed By Domain Technologies Ltd.







