-
by আরমান সিদ্দীকি
-
রাজশাহী
-
১০ জানুয়ারী ২০১২
-
১৪:৫৭
-
অপরাধ 
রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার শিলমাড়িয়া ইউনিয়নের বদোপাড়া গ্রামে নিখোঁজের ৫৭ দিন পর পাশের বাড়ির পায়খানার সেফটি ট্যাংক থেকে ৪র্থ শ্রেনীর ছাত্রীর গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে পুঠিয়া থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে। নিহত ছাত্রীর নাম প্রার্থনা সরকার (১০)। সে একই গ্রামের পরিমল সরকারের মেয়ে। শিশুটি উপজেলার কাশিয়াপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ত। গালিব ও রতন নামের দুই যুবক তাকে ধর্ষনের পর হত্যা করে লাশ সেপ্টি ট্যাংকে ফেলে দেয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। প্রতিবেদনটি নাগরিক কণ্ঠে প্রকাশিত হবার পরের দিন পুলিশ আসামীদের ধরতে সমর্থ হয়।
এই ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃতরা হলো তাহেরপুর ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষক ও পরিমলের একান্ত প্রতিবেশি আবুল কালাম আজাদ (৪৫), তার স্ত্রী নাসিমা বেগম (৪০), মেয়ে কেয়া খাতুন(২০) এবং একই গ্রামের নিতাই চন্দ্র মণ্ডলের ছেলে রতন কুমার মন্ডল(২৫)। গালিব মাদ্রসা থেকে এসএসসি পাস করার পরে এখন উপজেলার তাহেরপুর বাজারে তার মামার মোবাইলের দোকানে কাজ করে। রতন দশম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশোনা করার পরে তাহেরপুর বাজারে একটি সেন্ডেলের দোকানে কাজ করে।
জিডির সূত্র ধরে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। পরিমলের
পরিবারও মেয়ের খোঁজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে পরিমলের স্ত্রীর মনে পড়ে গালিব একদিন প্রার্থনাকে একটি জিনিস কিনে দিতে চেয়েছিল। প্রার্থনা বিষয়টি তার মাকে বলে দিয়েছিল। তারপর তার মা তাকে অন্যের জিনিস হাতে ধরতে বারণ করে দেন। এ ঘটনার কারণে প্রার্থনার বাবা-মায়ের মনে সন্দেহ জাগে গালিব ও রতন তাদের মেয়েকে অপহরণ করতে পারে। এই ভেবে গত ১১ ডিসেম্বর পরিমল সরকার বাদি হয়ে গালিব এবং রতনকে আসামি করে থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। পুলিশ ওই দিনই রতনকে গ্রেপ্তার করে। তাকে গ্রেপ্তারের খবর পেয়েই গালিব বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রতন এ ব্যাপারে পুলিশকে কোনোই তথ্য দেয়নি। পুলিশ তাকে আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ডের আবেদন করে। বোববার আদালত রতনের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে গতকাল সকালে রতন পুলিশের কাছে স্বীকার করে গালিব প্রার্থনাকে হত্যা করে তার বাড়ির টয়লেটের সেপ্টি ট্যাংকে লাশ লুকিয়ে রেখেছে। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ সোমবার দুপুরে গালিবের বাড়ির সেপ্টি ট্যাংকের ওপরের ঢাকনা সরিয়েই প্রার্থনার গলিত লাশ দেখতে পায়। তারা লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠায়। রতন পুলিশের কাছে আরো স্বীকার করেছে যে প্রার্থনাকে হত্যার পরে গালিব প্রার্থনার কানের স্বর্ণের রিং খুলে নেয়। পরে সে রিং জোড়ি তাহেরপুর বাজারের সাধনা জুয়েলার্সে দুই হাজার ৯শ’ টাকায় বিক্রি করে। বিক্রির পরে আশুতোষের সেলুনে তারা এক সঙ্গে মিষ্টি খেয়েছে। এছাড়াও গালিবের বাবা আবুল কালাম আজাদ প্রার্থনা নিখোঁজ হওয়ার দিন সন্ধ্যায় পরিমলের বাড়িতে গিয়ে নিজের থেকে বলেছিলেন মেয়েটি চলে গেল-এর তো কোনো সাক্ষি নেই। এ কথার সূত্র ধরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে তার কথাবার্তায় পুলিশের সন্দেহ হলে গত রোববার পুলিশ তাকেও গ্রেপ্তার করে। ওই দিনই তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তাকে জেল হাজতে প্রেরণ করে। গতকাল লাশ উদ্ধার করার পরে পুলিশ গালিবের মা নাসিমা বেগম ও বোন কেয়া খাতুনকে গ্রেপ্তার করে।
পুঠিয়া থানার অফিসার্স ইনচার্জ শেখ আতিয়ার রহমান বলেন, তারা ধারণা করছেন শিশুটিকে ধর্ষণের পরে জানাজানির ভয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ সেপ্টি ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। গালিবের বাবা, মা ও বোনের সঙ্গে কথা বলে মনে হয়েছে বিষয়টি তারাও জানতো। এ জন্য এই হত্যা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের আজ মঙ্গলবার আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে তিনি জানান।
লাইক:
4
দেখা হয়েছে: ০ বার