কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলায় ঘন কুয়াশায় ও হাড়কাঁপানো শীতে চলতি মৌসুমে ইরি বোরো ধানের বীজ তলার চারা লালচে ও হলুদ ভাব হয়ে ক্রমান্বয়ে মরে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রায় ১২ হাজার হেক্টর জমির বপন করা বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। এই বীজতলা থেকে জমিতে চারা রোপন করা হলে ফলন বিপর্যয় হতে পারে এমন আশংকা করছেন সাধারণ কৃষকরা। এসব বীজ তলার চারা রোপন করতে না পেরে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কটিয়াদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সাহার সাথে এ ব্যাপারে কথা বলে জানা গেছে চলতে বোরো মৌসুমে উপজেলার ১২ হাজার হেক্টর জমিতে ইরি বোরো ধান চাষের লক্ষ্য মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু আধুনিক প্রযুক্তিতে যেসব বীজতলা তৈরী করা হয়েছে ঐসব বীজতলা প্রচন্ড শীতেও স্বাভাবিক রয়েছে আর পুরাতন পদ্ধতিতে তৈরী বীজতলাগুলো ঘনকুয়াশার কারনে বীজ তলার চারা লালচে ও হলুদ হয়ে আস্তে আস্তে শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। বীজতলায় এ ধরনের অনাকাঙ্খিত সমস্যায় সাধারণ কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। গত রোববার উপজেলার জালালপুর, আচমিতা ও পৌরসদরে বিভিন্ন বিভিন্ন ইউনিয়নে সরেজমিনে এলাকার কৃষকদের সাথে এ ব্যাপারে কথা বলে জানা গেছে তাদের বীজতলা তৈরীতে ধান বীজ ছিটানোর পর ৪ থেকে ৭ দিনের মধ্যে চারা বের হয়ে থাকে। কিন্তু এলাকার বেশীর ভাগ বীজ ধান থেকে চারা গজায়নি। কিছু কিছু বীজতলায় চারা গজালেও তা লালচে ও হলুদ রং হয়ে মরে যাচ্ছে। কৃষকরা তাদের বীজতলা রক্ষায় কীটনাশক ঔষধ প্রয়োগ করছেন। পরে জমিতে সেচ দিয়েও জমি রক্ষা করতে পারছেন না তারা। অপরদিকে জ্বালানি তেল, সার, কীটনাশকের মূল্য বেড়ে যাওয়ার বীজতলা তৈরী করতেই বাড়তি টাকা গুনতে হচ্ছে কৃষকদের। এ ব্যাপারে কৃষি কর্মকর্তাদের সাথে প্রয়োজনীয় পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করলেও তারা তেমন কোন কার্যকরী পরামর্শ পায়নি বলে অভিযোগ করেছেন। সাধারণ কৃষকরা আরও জানান, এসব ক্ষতিগ্রস্থ বীজতলায় চারা দিয়ে কোন অবস্থাতেই বোরো চাষ করা সম্ভব নয়। নতুন করে আবার বীজ তলা তৈরী করতে ৪৫ দিন সময় লাগবে। বিলম্বের ফলে অর্ধেক ফলনও পাওয়া যাবে না। ফলে বাড়তি টাকা দিয়ে বাইরে থেকে চারা ক্রয় করে আনতে হবে বলে তারা জানান। এরপরও ঐ চারা দিয়ে ভাল বপন পাওয়া যাবে কিন তা নিয়েও এলাকার সাহাব উদ্দিন সহ অনেক সাধারণ কৃষকের মধ্যে সংশয় দেখা দিয়েছে।
লাইক:
3
দেখা হয়েছে: ০ বার