কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলায় আবাদি জমির উপরিভাগের মাটি যাচ্ছে ইটভাটায়। এতে জমির উর্বরাশক্তি কমে যাচ্ছে সেই সঙ্গে পরিবেশের ভারসাম্যও নষ্ট হয়ে আসছে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ইটভাটার ইট তৈরি, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন ও বসতভিটা ভরাটের কাজে ওই মাটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। প্রতি বছর আমন ধান কাটার পরপরই বর্ষা মৌসুম শুরুর আগ পর্যন্ত মাটি ব্যবসায়ীরা অশিক্ষিত সহজ-সরল গরিব কৃষক ও জমির মালিকদের টাকার লোভ দেখিয়ে আবাদি জমির মাটি কিনে নেয়। এতে কোনো কিছু চিন্তাভাবনা না করেই অতিরিক্ত টাকার লোভে ফসলি জমির উপরিভাগের মাটি দালাল চক্রের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন তারা। জমির উপরিভাগের মাটি বিক্রির কুফল সম্পর্কে ধারণা না থাকায় নামমাত্র মূল্যে তা বিক্রি করছে সংশ্লিষ্ট মালিকরা। মাটি বিশেষজ্ঞরা এর কুফল সম্পর্কে সচেতন না করায় ইটভাটর মৌসুম শুরুর পরপরই একটি চক্র প্রতি বছরই মাটি ব্যবসায়ীদের যোগসাজশে জমির উপরিভাগের মাটি আগেভাগেই কিনে নিয়ে যায়। সরজমিনে দেখা গেছে, পাকুন্দিয়া উপজেলার চন্ডিপাশা, নারান্দী, পৌর এলাকা, চরফরাদি, হোসেন্দি ও এগারসিন্দুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের আবাদি জমির মাটি কেটে প্রতিদিন শত শত ট্রাক উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। এ উপজেলায় মোট ১৭টি ইটভাটা রয়েছে। যেগুলোতে প্রতি একর মাটির দাম ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে। মাটি ব্যবসায়ীরা জানান, ইটভাটার মালিকের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে মাটির ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। ইটভাটার দূরত্ব অনুপাতে পরিবহন খরচের মাটির দাম কম-বেশি হয়। জমির মালিক হাবিবুর রহমান জানান, প্রতি একর জমির উপরিভাগের মাটির মূল্য বাবদ তিনি পেয়েছেন ২০ হাজার টাকা।
উপজেলা সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসেন জানান, জমির উপরিভাগের মাটি কিনে নেয়ায় আবাদি জমির উর্বরা শক্তি দিন দিনই কমে যাচ্ছে। ফসল উৎপাদনের জন্য মাটির যে গুণাগুণ থাকা দরকার এর সবই থাকে মাটির ওপরের অংশে। একবার উপরিভাগের মাটি কেটে নিলে তা পূরণ হতে প্রায় এক যুগ সময় লেগে যায়। তিনি এ ব্যাপারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
লাইক:
0
দেখা হয়েছে: ০ বার