-
by মোঃ আব্দুর রাজ্জাক
-
তেঁতুলিয়া
-
৩১ মে ২০১২
-
১৩:০৮
-
পরিবেশ 
জেলা সদরের সাতমেরা ইউনিয়নের ডুবানুচি এলাকায় ইজারা না নিয়েই বরফা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। গত কয়েক মাস থেকে ওই নদীর ৩৫-৪০ ফুট মাটি খনন করে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার পাথর উত্তোলন করেছে এক প্রভাবশালী। অতিরিক্ত খননের ফলে নদীর পাশের জমি ভেঙ্গে যাচ্ছে। আগামি বর্ষা মৌসুমে অনেক জমি নদীতে তলিয়ে যেতে পারে বলে জমির মালিকরা আশংকা প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ভূমি অফিস উপজেলা ভূমি অফিসে চিঠি দিলেও এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
ইউনিয়ন ভূমি অফিস ও স্থানীয়রা জানিয়েছে, এককালের খরস্রোতা নদী বরফা বর্তমানে মৃতপ্রায়। বর্ষার পর এই নদীতে এখন আর পানি থাকে না। স্থানীয় লোকজন শুষ্ক মৌসুমে এই নদীর বুকে বিভিন্ন ধরণের ফসল আবাদ করে। গত কয়েক মাস থেকে ডুবানুচি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাসমত আলী সাহেবীজোত মৌজার ৫৭৮ নং খাস খতিয়ানভুক্ত বরফা নদীর তলদেশ খনন করে পাথর উত্তোলন করে আসছে। বর্তমানও পাথর উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে বলে এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে হাসমতের সাথে কথা বললে তিনি জানান, জেলা পাথর বালি ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী সমিতির নামে এই নদীটি পাথর মহাল হিসেবে ইজারা নিয়ে তিনি পাথর উত্তোলন করছেন। নিয়ম আনুযায়ী রয়্যালটিও দিচ্ছেন। সমিতির সভাপতি আমানুল্লাহ বাচ্চু ও জানালেন পাথর মহাল হিসেবে বরফা নদীও তালিকাভুক্ত রয়েছে। সাতমেরা ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মো. আব্দুল গনি জানান, বরফা নদী পাথর মহাল হিসেবে তালিকাভুক্ত নয়। এই নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমরা সরজমিন পরিদর্শন করে সত্যতা পেয়েছি। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) কে গত ১৬ এপ্রিল একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। এর অনুলিপি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরেও দাখিল করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রাজস্ব শাখায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পঞ্চগড় জেলার ১৯টি নদীতে ইজারাযোগ্য পাথর মহাল রয়েছে। সদর উপজেলার সাতমেরা ইউনিয়নের বরফা নদী এই তালিকার মধ্যে নেই। বর্তমানে তালিকাভুক্ত পাথর মহালগুলো থেকে পাথর বালি ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী সমিতির মাধ্যমে প্রতি সিএফটি পাথরে ১টাকা ৯৬ পয়সা হারে রয়্যালিটি আদায় করা হচ্ছে।
পঞ্চগড় সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. হামিদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
লাইক:
1
দেখা হয়েছে: ০ বার