পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলা ও তেঁতুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দুই তিন মাস ধরে অর্ধশত বোমা মেশিন দিয়ে পাথর তোলা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসি ও সাধারণ পাথর শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় ২০০৯ সালের ১ সেপ্টেম্বর বোমা মেশিন মালিকপক্ষ ও সাধারণ পাথর শ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষে আমিরুল ইসলাম (৪০) নামের এক পাথর শ্রমিক নিহত হয়। এরপর দীর্ঘদিন বোমা মেশিন দিয়ে পাথর তোলা বন্ধ থাকে। কয়েক মাস ধরে আবার তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর, বুড়াবুড়ি, শালবাহান ও সদর উপজেলার সাতমেড়া,অমরখানা ইউনিয়নে অর্ধশত বোমা মেশিন দিয়ে পাথর তোলা চলছে। এলাকার প্রভাবশালী কয়েক ব্যক্তি, রাজনৈতিক দল ও প্রশাসনের ছত্রছায়ায় এ কাজ করছেন। কেউ কেউ নিজের জমি দাবি করে খাসজমি থেকে পাথর তুলছেন।
সাধারণ পাথর শ্রমিকেরা বোমা মেশিন দিয়ে পাথর তোলার প্রতিবাদে গত ৭ই মে সন্ধায় ভজনপুর বাজারে পাথর শ্রমিকরা প্রতিবাদ সমাবেশ করে। ওই সমাবেশে পাথর শ্রমিক আন্দোলন নেতা তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুক্তারুল হক মুকু, আবু তাহের প্রমুখ বক্তব্য দেন।বক্তারা বলেন বোমা মেশিন বন্ধ না হলে মহাসড়ক অবরোধসহ কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। পঞ্চগড় পরিবেশ পরিষদের সভাপতি ও সরকারি মহিলা কলেজের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের প্রধান তৌহিদুল বারী বলেন,পাথর তুলতে গিয়ে বিশাল গর্ত করা হচ্ছে।পাথর তোলার পর এসব জমি পতিত হয়ে পড়েছে। এতে কৃষি জমি হ্রাস পাচ্ছে। প্রকৃতি বদলে যাচ্ছে।ফলে কৃষি পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ আলিমুজ্জামান বলেন পাথর তোলার ফলে আবাদি জমি ও মাটির উর্বরা শক্তি কমে যাচ্ছে। তেঁতুলিয়া উপজেলার প্রায় ৭শত হেক্টর অনাবাদি হয়ে পড়েছে। এসব জমি দীর্ঘদিনেও আর আবাদি জমিতে পরিনত করা সম্ভব হবে না। কৃষি ও পরিবেশে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
তেঁতুলিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজি মাহমুদুর রহমান বলেন,রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় বোমা মেশিন দিয়ে পাথর তোলাকে সমর্থন করে না।
গত ১৪মে জেলা আইনশৃংখলা কমিটির মাসিক সভায় পঞ্চগড়-১ আসনের সাংসদ মোজাহারুল হক প্রধান বোমা মেশিন দিয়ে পাথর তোলা বন্ধের জন্য একটি কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন। সভায় তেঁতুলিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মুক্তারুল হক মুকুকে আহবায়ক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে যুগ্ন আহবায়ক করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার জেলা আইনশৃংখলা কমিটির মাসিক সভায় আবার আলোচনা হয়। ওই দিনই বিকেলে সহকারি পুলিশ সুপার ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে তেঁতুলিয়ার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয় এবং মাত্র তিনটি বোমা মেশিন জব্দ করা হয়।
তেঁতুলিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়সিন্ধু তালুকদার বলেন আমরা বোমা মেশিন বন্ধের জন্য অভিযান চালিয়ে তিনটি বোমা মেশিন জব্দ করেছি। এ ব্যাপারে ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসক তোফাজ্জল হোসেন মিয়াঁ বলেন কোন ক্রমেই বোমা মেশিন দিয়ে পাথর উত্তোলন করতে দেয়া যাবে না। পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে। বোমা মেশিন জব্দ করে মামলা করা হয়েছে।
লাইক:
0
দেখা হয়েছে: ০ বার