ফসলী জমিতে ক্ষতিকর কীটনাশক, রাসায়নিক সারের ব্যবহার এবং নদীনালা খালের পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও মিঠাপানির অভাবে বরিশালে প্রায় ৩০ প্রজাতির মিঠাপানির দেশীয় মাছের অস্তিত্ব বিলীন হতে চলেছে। মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান কয়েক দশক আগেও এ অঞ্চলে শতাধিক প্রজাতির মাছ ছিল। কিন্তু মনুষ্যসৃষ্ট নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে অনেক প্রজাতির মাছ এখন আর দেখা যায় না। তাছাড়া মৌসুমে নদী- খাল - বিল থেকে কারেন্ট জালের মাধ্যমে ব্যাপকহারে ডিমওয়ালা মাছ ধরার কারণে মিঠা পানির বিভিন্ন প্রজাতির মাছের অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাচ্ছে বলে তারা মনে করেন।কালের গর্ভে মাছে ভাতে বাঙ্গালীর ঐতিহ্য আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আজিজুর রহমান জানান সদর উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ পাওয়া যেত। যার মধ্যে শোল,টাকি কৈ, গজাল,টেংরা,চিতল, শিং সহ ২৫ প্রজাতির মিঠাপানির মাছ এখন বিলুপ্তি পথে এসব মাছ স্বাদ ও পুষ্টিগুণে ছিল অনন্য। শুষ্ক মৌসুমে খাল বিলের পানি শুকিয়ে গেলে চলতো মাছ ধরার উৎসব। দুর-দুরান্তের বাজারগুলোতে বরিশাল থেকে বিপুর পরিমানে মাছ সরবরাহ করা হতো। বর্ষা মৌসুমের আগে এপ্রিল মাস থেকে খাল-বিল-নদীতে মাছ ডিম দেওয়া শুরু করে। কারেন্ট জাল দিয়ে মাছের রেনু ধরা পড়ায় প্রজনন বাঁধাগ্র্রস্ত হয়। জালে ধরা পরে নষ্ট হয় হাজার হাজার রেনু। তাছাড়া বিভিন্ন কারণে পানি দূষণ জলাশয়ে গভীরতা হ্রাসও অন্যতম কারণ। ফসলের ক্ষেতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মাছ মারা গিয়ে অনেক প্রজাতির মাছ বিলুপ্তি ঘটছে।
লাইক:
2
দেখা হয়েছে: ০ বার