পঞ্চগড় জেলার সীমান্ত গ্রাম হাড়িভাষার প্রত্যন্ত অঞ্চলে উন্নত জাতের পানের চাষ হচ্ছে। বেশ কয়েক বছর ধরে এখানকার প্রান্তিক চাষিরা বিভিন্ন সব্জি আবাদে হাড়িভাসা এলাকাকে কৃষি বিপ্লবে পরিণত করেছে। সব্জি আবাদের অনেক আগ থেকেই এখানে চলছে পানের আবাদ। অত্যন্ত লাভজনক হবার কারণে কৃষকরা বেশ কয়েক বছর ধরে পানের আবাদের প্রতি ঝুঁকে পড়েছে। বিঘা প্রতি সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা খরচ করে অনেক চাষিই বছর শেষে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করতে পেরেছে। অনেক প্রান্তিক চাষী এখন পান চাষ করে সাবলম্বী হয়েছে। তারা জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট বিভাগের সহযোগীতা ও ঋণ সুবিধা পেলে ব্যাপক আকারে পান চাষ করে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন চালান ক্ষেত্রে পঞ্চগড়ে পান রপ্তানি করা সম্ভব।
প্রাকৃতি দূর্যোগ মুক্ত এবং অপেক্ষাকৃত রোগ বালাই কম হবার কারণেই প্রতি বছর চাষীরা নতুন নতুন বাগান করতে ঝুঁকে পড়েছে। পরিমিত পরিচর্যা করতে পারলে একটি বাগান থেকে ২০ বছর পর্যন্ত পান আহরণ সম্ভব বলে চাষিরা জানায়। ব্যাপক আকারে পানের চাষ এই এলাকায় হলেও স্থানীয় কৃষি বিভাগের নেই কোন কার্যকর তদারকি। রোগ বালাই নতুন করে দেখা দিলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগের কোন লোক তাদের কোন খবর রাখেনি। বরজ নির্মাণের উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়া, সার, কীটনাশক এবং খৈলের চড়া দামের কারণে উৎপাদন খরচ কিছুটা বেড়ে গেলও থেমে নেই চাষিরা। সদর কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন জানালেন, জেলার সদর ও বোদা উপজেলায় ২০ হেক্টর জমিতে পানের চাষ হচ্ছে। দেশের প্রসিদ্ধ অঞ্চলের পানের চেয়ে পঞ্চগড়ের পান আকার ও স্বাদ কোন অংশেই কম নয়। চাষীদের আর্থিক ভাবে সহায়তা প্রদান করলে পঞ্চগড়ের চাষকৃত পান দেশের অনেকটা চাহিদা মিটিয়ে কৃষি অর্থনীতিতে বড় ধরনের ভূমিকা রাখতে পারে।
লাইক:
0
দেখা হয়েছে: ০ বার