তেঁতুলিয়া উপজেলা নদী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মানে ব্লক তৈরীর কাজ নিম্নমানের হওয়ায় পঞ্চগড়-১ আসনের এমপি পরিদর্শনে এসে ব্লক গুলো ভেঙ্গে দিয়ে বাতিল করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষকে। এমপির অভিযোগের প্রেক্ষিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরিদর্শনে এসে এ সমস্ত ব্লক দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করা যাবেনা মর্মে বাতিল করে এবং পুনরায় নতুন ব্লক তৈরী করে নদী তীর নির্মাণ করার নির্দেশ প্রদান করে।
তেঁতুলিয়া উপজেলার মহানন্দা নদী ও করতোয়া নদী তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা বাবদ সরকার প্রায় ৫০কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে নির্ধারিত সিডিউল মোতাবেক জনস্বার্থে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দেয় ।এতে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান তাদের সিকিউরিটি মানি জমা দিয়ে ব্লক তৈরীর কাজ শুরু করে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ম নীতিকে উপেক্ষা করে সিডিউল বহির্ভূত নিজেদের মনমত ব্লক তৈরীর কাজ চালিয়ে যায়। ব্লক তৈরীতে শতভাগ ভাঙ্গা পাথর ব্যাবহার করার নিয়ম থাকলেও সরকারি নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে সস্তা পাথর দিয়ে ক্ষমতার দাপটে দেখিয়ে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে গত ২জুন পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য মোজাহারুল হক প্রধান সরে জমিনে পরিদর্শন করে ব্লক তৈরীর কাজ নিম্নমানের বিধায় ৬টি ঠিকাদারের তৈরী ব্লকগুলো কাজে ব্যাবহার অযোগ্য মর্মে ভেঙ্গে দেয় এবং পুনরায় সম্পূর্ণ ব্লক নতুন করে তৈরী করে ব্যবহারের নির্দেশ দেন।
দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড উক্ত ব্লকগুলো নিম্নমানের কিনা তা যাচাই করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ব্লক বিশেষজ্ঞ মোঃ তোফায়েল হোসেনকে দায়িত্ব দেয়। সরে জমিনে পরিদর্শনে এসে ব্লকগুলো নিম্নমানের হয়েছে মর্মে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গুলোকে সাফ জানিয়ে দেন। পরে উক্ত ব্লকগুলো চালিয়ে নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে ম্যানেজ করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো।
ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান গুডমেন এন্টার প্রাইজ এর সাথে কথা বললে ইনকিলাব পত্রিকাকে জানান বিভিন্ন প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। শতভাগ কাজ করার ইচ্ছা থাকা সত্বেও আমাদের করা সম্ভব হচ্ছে না। ঠিকাদার এনামুল হক এর সাথে মোবাইলে কথা বলতে চাইলে সে বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং তার ম্যানেজার এর সাথে কথা বলতে বলেন। তার ম্যানেজার মোঃ গোলাম হোসেন এর সাথে কথা বললে তিনি জানান আমরা কোন মতে কাজ শেষ করতে পারলে বাঁচি। আমার ঠিকাদার একজন নামকরা ব্যাক্তি তার উপর কথা বলার মত সাহস এমপির নাই। আমাদের ইচ্ছা মত কাজ করে যাব আমার ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কিছু করতে পারবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দুর্বলতার কারণে আমরা ঠিকাদারদের ঠিকমত কাজ করার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে পারছি না।
ঠিকাদার জামাল উদ্দীন জানান অফিস কর্তৃপক্ষের দুর্বলতার কারণে আমরা ঠিকমত কাজ বুঝিয়ে দিতে পারছিনা।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা(এসও) বানু বাবু ও এসও উসমান গনি বলেন আমাদের হাত পা বাঁধা অফিসিয়াল দূর্বলতার জন্য সিডিউল মোতাবেক কাজ বুঝে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে পারছি না।
লাইক:
1
দেখা হয়েছে: ০ বার