বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলা তেঁতুলিয়া। ৮০র দশকে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালটি তেঁতুলিয়ার মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়। সময়ের সাথে সাথে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ডাক্তার সহ আনুষঙ্গিক কোন সুবিধা না বাড়ার কারণে সীমান্ত এই জনপদের সাধারণ মানুষ ভীষন ভাবে আধুনিক চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েই গেছে। প্রায় ২ লাখ মানুষের আধুনিক চিকিৎসার আশ্রয় স্থল তেঁতুলিয়া হাসপাতালটি বর্তমানে নিজেই অসুস্থ্য। অবহেলিত এই জনপদের সাধারণ মানুষজন বর্তমানে আধুনিক সকল চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত। পক্ষান্তরে যে টুকু সরকারী বরাদ্দ জনসাধারনের জন্য মিলছে তার সবটুকুই ভোগ করছে সংশ্লিষ্টরা। কর্তৃপক্ষের অনিয়ম দূর্নীতি আর স্বেচ্ছাচারিতায় সাধারণ মানুষ ন্যূন্যতম স্বাস্থ্য সেবা থেকেও হচ্ছে বঞ্চিত।
পঞ্চগড় জেলা সদর থেকে ৪০ কিলোমিটার দুরে অবস্থিত তেঁতুলিয়া উপজেলা। বাংলাদেশের সর্ব উত্তরের উপজেলা এটি। ৭টি ইউনিয়নের প্রায় ২ লাখ মানুষের বসবাস এখানে। প্রায় ৩৫ বছর আগে এ অঞ্চলের মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য গড়ে উঠা তেঁতুলিয়া হাসপাতালটির অবকাঠামোগত কোন উন্নয়ন হয়নি। চলতি বছরের প্রথম দিকে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় রূপান্তরিত করা হয়েছে এই হাসপাতালটিকে। মূল ভবন ঘেষে একটি আধুনিক ভবন নির্মাণ সেই সাথে ২৭ জন ডাক্তারের পদ সৃষ্টি করে সকল প্রকার দায়িত্ব শেষ করেছে সরকার। কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২৭ জন ডাক্তারে স্থলে এখানে রয়েছে মাত্র ২ জন ডাক্তার। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগে বিগত ১৫ বছরেও কোন ডাক্তার এখানে ছিলনা। বর্তমানেও নেই। প্রতিদিন গড়ে ৩ শতাধিক রোগী চিকিৎসা সেবা নেয়ার জন্যে আসে এই হাসপাতালে। সরকারী বরাদ্দের ঔষধপত্র এখানকার রোগীরা ঠিকমত পান না। নোংরা পরিবেশ, জরাজীর্ণ আসবাবপত্র ভর্তি রত রোগীদের নিম্নমানে খাদ্য সরবরাহ,অ্যাম্বুলেন্স বিভিন্ন বিভাগের যন্ত্রাংশ সহ নানা বিধ সমস্যার মধ্যে আধুনিক চিকিৎসার বিষয়টি এখানকার মানুষের কাছে অনেকটা সোনার হরিনের মতো।
ডাক্তার নিয়োগ সহ প্রয়োজনীয় জনবল সৃষ্টি করতে পারলে আধুনিক সকল স্বাস্থ্য সেবা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়া সম্ভব বলে জানালেন পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ও উপ পরিচালক স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ।
লাইক:
0
দেখা হয়েছে: ০ বার