সাব রেজিস্ট্রারের অভাবে পঞ্চগড় জেলার ছয়টি সাব রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে। ছয় জনের স্থলে মাত্র এক জন সাব রেজিষ্ট্রার কোন অফিসে সপ্তাহে একদিন আবার কোন অফিসে সপ্তাহে অর্ধেক দিন করে জমি ক্রয় বিক্রয়ের দলিল রেজিস্ট্রি করছেন। দীর্ঘদিন থেকে এ অবস্থা বিরাজ করলেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছেনা। এতে জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পাওয়াসহ সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। পঞ্চগড় সদর উপজেলায় দুইটি এবং বোদা, আটোয়ারী, তেঁতুলিয়া ও দেবীগঞ্জ উপজেলায় একটি করে সাব রেজিস্ট্রারের অফিস রয়েছে। এর মধ্যে শুধু জেলা রেজিস্ট্রারি কার্যালয়ের নিচে অবস্থিত রেজিস্ট্রি অফিসে একজন একজন সাব রেজিষ্ট্রার রয়েছেন। এই একজন সাব রেজিষ্ট্রার বাকি পাঁচটি রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল রেজিস্ট্রি সম্পাদন করেন। ভিড়ের সুযোগ নিয়ে সংশ্লিষ্টরা জমির ক্রেতা বিক্রেতাদের কাছে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।
অফিস সুত্রে জানা গেছে, জেলায় দীর্ঘ দুই বছর ধরে তিনজন সাব রেজিষ্ট্রার দিয়ে ছয়টি সাব রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম সপ্তাহে একদিন দুই দিন করে জমি রেজিস্ট্রির কার্যক্রম চলে আসছে। মুজিব নগর সরকারের কর্মচারীর ভূয়া সনদে চাকুরি করার অভিযোগে আইন মন্ত্রনালয় মাস দুয়েক আগে তেঁতুলিয়ার সাব রেজিষ্ট্রার সুধীর কুমার সরকারকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করে। একই অভিযোগে আইন মন্ত্রনালয় গত মাসের ২২ এপ্রিল আটোয়ারীর সাব রেজিষ্ট্রার আবুল বাশার মো. ইউসুফকে বরখাস্ত করে। ফলে গোটা জেলায় ছয়টি সাব রেজিস্ট্রি অফিসে সাব রেজিষ্ট্রারের সংখ্যা মাত্র একজনে গিয়ে দাঁড়ায়। জেলা রেজিষ্ট্রার গত ৯ মে এক আদেশে পঞ্চগড় সদরের সাব রেজিষ্ট্রার মো. জহুরুল ইসলামকে ছয়টি সাব রেজিষ্ট্রারের দায়িত্ব প্রদান করেন। তাঁকে রোববার পঞ্চগড় সদরে অর্ধবেলা এবং টুনিরহাটে অর্ধবেলা, সোমবার পঞ্চগড় সদরে অর্ধবেলা এবং আটোয়ারীতে অর্ধবেলা, মঙ্গলবার তেঁতুলিয়ায়, বুধবার বোদায় এবং বৃহস্পতিবার দেবীগঞ্জে সাব রেজিষ্ট্রারের দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন। গত ৯ মে থেকে তিনি এই নির্দেশনা মেনে ছয়টি অফিসে সাব রেজিষ্ট্রারের দায়িত্ব পালন করছেন।
পঞ্চগড় সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক জাহিদুল ইসলাম জানান, সপ্তাহে দুই দিন আধাবেলা অফিস হওয়ায় জমি রেজিস্ট্রিতে ভীড় হয়। তবে এ জন্য কোন অতিরিক্ত ফি নেয়া হয় না।
সাব রেজিষ্ট্রার মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ছয়টি অফিসের দায়িত্ব পালন করতে অসুবিধা তো হয়। অসুবিধা হলেও সরকারি দায়িত্ব পালন করতে হয়। অধিকাংশ সময়ই দলিল লেখকরা অফিস সময়ের পর দলিল রেজিস্ট্রি করতে আসেন। দূরদূরান্ত থেকে জমির ক্রেতা-বিক্রেতারা আসায় তাদের অনুরোধে অফিস সময়ের পরও দলিল রেজিস্ট্রি করতে হচ্ছে। এক অফিসে একদিন বা অর্ধেক দিন কাজের কারণে স্বাভাবিকভাবে ভীড় হয়। ভিড়ের সুযোগ নিয়ে দলিল লেখক বা অফিসের কেউ অতিরিক্ত টাকা নেয়ার ব্যাপারে কোন অভিযোগ পাইনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা রেজিষ্ট্রার আব্দুর রশিদ সাব রেজিষ্ট্রারের অভাবে কার্যক্রম ব্যহত হওয়ার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আইন মন্ত্রনালয় একজনকে সাময়িক বরখাস্ত এবং আরেকজনকে বরখাস্ত করার কারণে এ সমস্যা হয়েছে। এজন্য একজনকে ছয়টি অফিসের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি মহা পরির্দশক কে (রেজিস্টার) লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। সপ্তাহে একদিন বা অর্ধেক দিন রেজিস্ট্রি সম্পাদন হলেও সরকারের রাজস্ব আয়ে তেমন একটা হেরফের হচ্ছেনা। তবে জমির ক্রেতা বিক্রেতারা নিয়মিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে বিভিন্ন জেলায় ১৮ জন সাব রেজিষ্ট্রার দেয়া হয়েছে। কিন্তু পঞ্চগড়ে একজনকেও দেয়া হয়নি। দূরে হওয়ায় এখানে সাব রেজিস্ট্রাররা আসতে চায়না।
লাইক:
0
দেখা হয়েছে: ০ বার