Nagorikkontho is a Platform for the citizens which encourage their participation and gives them voice to express their opinions, feedback regarding public services and other issues of Bangladesh Government.

স্থানীয় সরকার বাজেট ও পরিকল্পনায় নারীর মানবাধিকার ইস্যুতে বরাদ্দের দাবি
যাচাই করা হয়নি

  • স্থানীয় সরকার বাজেট ও পরিকল্পনায় নারীর মানবাধিকার ইস্যুতে বরাদ্দের দাবি

No Video Found

  • No Audio found

নারীর মানবাধিকার, জেন্ডার বাজেটিং ও নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়নের কথা সরকারী বেসরকারী পর্যায়ে বলা হলেও তার প্রতিফলন কিন্তু প্রকৃত অর্থে ঘটেনি। কারণ কিছু দিন পূর্বে চট্টগ্রামের কোর্ট বিল্ডিং চত্বরে আদালতে বিচারপ্রার্থী গর্ভবতী মাকে আদালতের মেঝেতে সন্তান প্রসব করতে হয়েছে। আদালত চত্বরে নারীদের পৃথক কোন টয়লেটসহ বিশ্রামাগার নেই। একই ভাবে চট্টগ্রাম মহলে বাসগুলোতে নারীদের বসার কোন পৃথক স্থান নেই। যদিও প্রাক্তন মেয়রের আমলে নারীদের জন্য চলাচলকারী বাস সার্ভিস এখন পুরুষ বাস সার্ভিসে পরিনত হয়েছে। নারী ও সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলির কথা চিন্তা করে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের পরিকল্পনা ও বাজেট প্রণয়ন করার বিধান থাকলেও সত্যিকার অর্থে তার বাস্তবায়ন হচ্ছে না। সে কারণে আজকে বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোকে নারীর মানবাধিকার সুরক্ষা বিশেষ করে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন বন্ধ, যৌন হয়রানি, নারী ও শিশু পাচার রোধ, দরিদ্র নারীদের আত্মকর্মসংস্থান জোরদার, যৌতুক বন্ধ ইত্যাদি খাতে বরাদ্দ রাখার দাবীতে সভা সমাবেশ করতে হচ্ছে। ৩০ জুলাই ২০১২ নগরীর চান্দগাঁস্থ সিএসডিএফ-জিডিআরসি মিলনায়তনে সুফিয়া কামাল ফেলো, জেলা সামাজিক উদ্যোক্তা পরিষদ ও সিএসডিএফ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বেশ কয়েক ধাপ এগিয়েছে। সরকারের সাথে বিভিন্ন উন্নয়ন সংগঠন (এনজিও) ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের নিয়মিত মতবিনিয়ম এ ক্ষেত্রে একটি বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। বাজেট তৈরীর আগে ও পরে সরকার, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ও এনজিওদের উদ্যোগে যে আলোচনাগুলো অনুষ্ঠিত হয় তা বাজেটকে দরিদ্রবান্ধব ও জেন্ডার সংবেদনশীল করে তোলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সরকারের আন্তরিক ইচ্ছা ও প্রচেষ্টা না থাকলে এটা সম্ভব হতো না। সরকার বাজেট ঘোষণার সময় এখন নিয়মিতভাবে জেন্ডার বাজেট প্রতিবেদন প্রকাশ করছে। ২০০৯-১০ সালে ৪টি মন্ত্রণালয়ের, ২০১০-১১ সালে ১০টি মন্ত্রণালয়ের, ২০১১-১২ সালে ২০টি মন্ত্রণালয়ের জেন্ডার বাজেট প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ২০১২-১৩ অর্থ বছরে এ সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ২৫টিতে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, ২০১২-২০১৩ বাজেটে মোট বাজেট ব্যয় হবে ১ লক্ষ ৯২ হাজার কোটি টাকা। অনুন্নয়ন ব্যয় ১ লক্ষ ৩৫ হাজার ৫০ কোটি টাকা, উন্নয়ন ব্যয় (এডিপি) ৫৫ হাজার কোটি টাকা। ঘাটতি ৫২ হাজার কোটি টাকা (প্রায়) যা জিডিপি’র ৪.৮ শতাংশ। ঘাটতি মেটানো হবে ব্যাংক (২০ হাজার কোটি), ব্যাংক বহির্ভূত খাত (৯ হাজার কোটি) ও বিদেশ থেকে ঋণ নিয়ে। প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৭.২ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭.৫ শতাংশের মধ্যে রাখার আশা প্রকাশ করা হয়েছে। বাজেটে যে খাতগুলো বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে তা হচ্ছে বিদ্যুৎ, সড়ক যোগাযোগ, বন্দর, ভৌত অবকাঠামো, কৃষি, পল্লী উন্নয়ন, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা। মোট ভর্তুকি দেয়া হবে ৩৪.৫ হাজার কোটি টাকা। তবে এবারের বাজেটে জেন্ডার দৃষ্টিকোণ থেকে কিছু ইতিবাচক দিক হলো এবছর ২৫টি মন্ত্রণালয়ের জেন্ডার বাজেট প্রতিবেদন পেশ করা হয়েছে, প্রতিটি মন্ত্রণালয়/বিভাগের জেন্ডার খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ বরাদ্দের হার উপস্থাপন করা হয়েছে, নারীদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা ২ লক্ষ টাকা করা হয়েছে, এসএমই খাতে নারীদের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়াও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক কিছু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, গত অর্থ বছরে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রাপ্ত বরাদ্দের পুরোটাই খরচ করতে পেরেছে, সামাজিক নিরাপত্তা খাতের উপকারভোগীর সংখ্যা ও বরাদ্দের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, জেন্ডারে সর্বোচ্চ বরাদ্দপ্রাপ্ত পাঁচটি মন্ত্রণালয় হলো মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৮৫%, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক ৮১%, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় ৭০%, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ৭০%, পানি সম্পদ৪৯%, আর জেন্ডারে সবচেয়ে কম বরাদ্দপ্রাপ্ত ৫টি মন্ত্রণালয় হলো প্রতিরক্ষা১১%, স্বরাষ্ট্র ৯.৬%, তথ্য ৯.৪%, গৃহায়ন ও গণপূর্ত ১২.৫%, যুব ও ক্রীড়া ১৩.৪%।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয় স্থানীয় সরকারের বাজেট এবং পরিকল্পনায় জেন্ডার ইস্যু যুক্ত করার দাবীতে সিএসডিএফ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার ৬টি উপজেলা, ১৬টি ইউনিয়ন পরিষদের সাথে বাল্য বিবাহ, যৌন হয়রানি ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বাজেটে বরাদ্দের দাবীতে মতবিনিয়ম সভা সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের বাজেট ও পরিকল্পনায় যে সমস্ত বিষয় যুক্ত করতে পারে তাদের মধ্যে এনএনপিসি নিয়মিত সভা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন ও যৌনহয়রানির ঘটনায় উদ্যোগ গ্রহণ করার বিষয়ে পরিকল্পনায় যুক্ত করা এবং এসব ক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দ করা, বাল্য বিবাহ, যৌনহয়রানি প্রতিরোধ, যৌতুক প্রথা বন্ধে স্থানীয় ভাবে প্রচার-প্রচারণা ও জনমত সৃষ্টিতে উদ্যোগ গ্রহনের জন্য বরাদ্দ রাখা, নারী নির্যাতন বন্ধে নির্যাতিত নারীদের জন্য আইনগত সহায়তা ও পুনর্বাসনের জন্য বরাদ্দ রাখা, জেলা, উপজেলা পরিষদ/পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদে নারী-পুরুষের জন্য পৃথক টয়লেট, বিশ্রামাগারের ব্যবস্থা করা, উপজেলা ও জেলা পরিষদে নারী সদস্যার অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করে পরিষদ সমুহকে পূর্নাঙ্গ করা, জেলা,উপজেলা পরিষদ/পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন কমিটিতে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, জেলা,উপজেলা পরিষদ/পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদের পর্যায়ে যেসব স্কুলে ছেলে এবং মেয়েদের জন্য পৃথক টয়লেট এর ব্যবস্থা নেই সেখানে বাজেট বরাদ্দ রাখা, বাল্য-বিবাহ, কন্যা শিশু ধর্ষন, নিপীড়ন, পাচারের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকারের নিজস্ব উদ্যোগ ও সরকারের বিভিন্ন বিভাগ ও বেসরকারী সংস্থার যৌথ সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রচারণা কর্মসূচী গ্রহন করা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যেমন রাস্তাঘাটে কন্যা শিশুরা যেন কোনরূপ যৌন-হয়রানি, পর্নোগ্রাফি, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার না হয় তার জন্য স্থানীয় ভাবে প্রতিরোধ ও জনমত গঠনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, কন্যা শিশুর জন্য নিরাপদ ও মানসম্পন্ন বিনোদন, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুবিধা ও পরিবেশ নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন সুপারিশ রাখা হয়।

লাইক: UP  DOWN  0 দেখা হয়েছে: ০ বার



শিরোনাম উৎস তারিখ
এক শিশু এক ট্যাবলেট BBC Bangla ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩
আত্মহত্যা: বাংলাদেশে গোপন মহামারী BBC Bangla ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩
দিল্লির রায় 'কঠোর' বার্তা BBC Bangla ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩
তথ্যমন্ত্রীর সাথে বিশেষ সাক্ষাৎকার BBC Bangla ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩
হামলা সন্ত্রাসী ও রাজনৈতিক চক্রান্তমূলক:... BBC Bangla ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩

Designed and Developed By Domain Technologies Ltd.