-
by অমিত বণিক
-
কিশোরগঞ্জ
-
৬ সেপ্টেম্বর ২০১২
-
১৩:২০
-
শিক্ষা 
কিশোরগঞ্জের দুর্গম হাওর এলাকায় প্রাথমিক শিক্ষার সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে শিক্ষার আলো পৌঁছে দিতে ভাসমান পাঠশালা ‘শিক্ষাতরী’র যাত্রা শুরু হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. এমদাদুল হক চৌধুরী ইটনা উপজেলার ধনু নদী সংলগ্ন ধনপুর ইউনিয়নের বাকসাই গ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শিক্ষাতরী’র পাঠদান কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচীর আওতায় জেলার হাওর অধ্যুষিত ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম, নিকলী ও করিমগঞ্জ এই পাঁচটি উপজেলার দুর্গম ও বিদ্যালয়বিহীন ১২টি গ্রামে এ বিদ্যালয় চালু করা হয়েছে। এ উপলক্ষে বাকসাই গ্রামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, ব্র্যাকের কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি প্রবাল কুমার সাহা, জেষ্ঠ্য এলাকা ব্যবস্থাপক আশরাফ আলী, ইটনা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আকিকুর রেজা খান, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দীপক কুমার রায়, ধনপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান রামানন্দ দাস প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে এলাকাবাসীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাকসাই গ্রামে প্রায় দুই হাজার লোক বাস করেন। ৭টি পাড়া নিয়ে গঠিত এ গ্রামে দীর্ঘদিনেও কোন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি। গ্রামের ৪ কিলোমিটার দূরে শিলুন্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ৬ কিলোমিটার দূরে বেতেগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নামে দুটি বিদ্যালয় থাকলেও বর্ষা মৌসুমে ছেলে-মেয়েদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে তারা ভরসা পান না। যে কারণে এ গ্রামের কমপক্ষে শতাধিক স্কুল গমনোপযোগী ছেলে-মেয়ে সবসময় প্রাথমিক শিক্ষার বাইরেই রয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় তাদের গ্রামে ব্র্যাকের ভাসমান পাঠশালা ‘শিক্ষাতরী’র কার্যক্রম তাদেরকে আশাবাদী করে তুলেছে।
শিক্ষাতরীর ক্লাশে যোগ দেওয়া আট বছর বয়সী বৃষ্টি জানায়, তাদের কোন স্কুল ছিল না। লেখাপড়া শিখারও কোন সুযোগ ছিল না। এখন নতুন স্কুল হওয়ায় তাদের জন্য খুব ভালো হয়েছে। এখন সে রোজ স্কুলে পড়তে যাবে।
বিশাল আয়তনের রঙিন ট্রলারের ভেতর মাদুর বিছিয়ে তৈরি করা হয়েছে শ্রেণি কক্ষ। সেখানেই ব্ল্যাকবোর্ড, নানা ধরনের চার্ট এবং রকমারি শিক্ষা উপকরণ দিয়ে শ্রেণি কক্ষটিকে সুন্দর করে সাজানো হয়েছে। বাকসাই শিক্ষাতরীর শিক্ষক গীতা রাণী দাস জানান, সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে ক্লাশ চলে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষাতরীতে এসে আনন্দময় পরিবেশে শিক্ষাগ্রহণ করতে পেরে খুবই উচ্ছ্বসিত হচ্ছে।
ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচীর জেষ্ঠ্য এলাকা ব্যবস্থাপক আশরাফ আলী জানান, ইটনায় দুইটি, মিঠামইনে তিনটি, অষ্টগ্রামে একটি, নিকলীতে পাঁচটি এবং করিমগঞ্জে একটিসহ মোট ১২টি শিক্ষাতরীতে পাঠদান শুরু করা হয়েছে। শিক্ষাতরীর জন্য শিশুদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বিশেষভাবে প্রত্যেকটি ট্রলার তৈরি করা হয়েছে। নতুন বিদ্যালয় পেয়ে শিক্ষাতরীর আওতাভুক্ত এলাকার শিশুদের মাঝে খুশির জোয়ার বইছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন
লাইক:
0
দেখা হয়েছে: ০ বার